ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১১-০৬-২০২৬ ০৬:২১:৫৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-০৬-২০২৬ ০৬:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন
​যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে গ্রাফিক্স: বাংলা স্কুপ
নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে কিছু পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বড় একটি অংশের পণ্যে কর হ্রাস ও অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে অনেক পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী এসব পরিবর্তন কার্যকর হলে বাজারে কিছু পণ্যের দামে স্বস্তি আসতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

৬০টি নিত্যপণ্য: ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দৈনন্দিন বাজারে চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিশুখাদ্য: শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমে দাম কমতে পারে।

মসলা: জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়ার মতো মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

খেজুর: খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে।

সোনার গয়না: সোনার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের ফলে প্রতি ভরিতে করের চাপ কমেছে, এতে দাম কিছুটা কমতে পারে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি: ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িতে বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে এসব গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ল্যাপটপ ও কম্পিউটার: ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমতে পারে।

কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা: ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রতিবার ডায়ালাইসিস খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

ওষুধ: ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালে করছাড় দেওয়া হয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির ৯টি নতুন কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এতে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাদ্যযন্ত্র: গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে দাম কমতে পারে।

অন্যান্য: বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, পিওএস যন্ত্র, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিত্যপণ্যে কর কমানোয় সাধারণ মানুষের ব্যয়চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে বাস্তবে বাজারে দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ